বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভৌতিক স্থাপনাকাল্পনিক কল্পনা ভয়ংকর সব ভুতের গল্প 

Auto Draft

  বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভৌতিক স্থাপনা
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভৌতিক স্থাপনা

ভৌতিক বিষয়ে আগ্রহ আছে অনেকেরই। ছোটবেলায় ভূত-পেত্নীর গল্প পড়েননি বা শোনেননি এমন মানুষ কমই খুঁজে পাওয়া যাবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এমন সব স্থাপনা আছে যা নিয়ে শুধু ছোটদের কেন, ভয় রয়েছে বড়দেরও। এমন কিছু ভৌতিক স্থাপনা সম্পর্কে জানুন।

টাওয়ার অব লন্ডন
১৫৩৬ সালে হেনরি ১৭ বা সেভেনটিনের সময়ে এক স্ত্রীলোককে এই টাওয়ারে শিরোচ্ছেদ করা হয়। পরে শোনা যায়, ওই স্ত্রীলোকের আত্মাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যেত। মাঝে মাঝে তার খণ্ডিত মাথা হাতে নিয়ে হাঁটতেও দেখা যায়। টাওয়ার গ্রিন ও টাওয়ার চাপেল রয়েলে হাঁটার কথা বলেছেন অনেকে। বিখ্যাত ভৌতিক স্থান হিসেবে পরিচিত এই টাওয়ার অব লন্ডন।

প্যারিসের কাটাকম্ব
মরা মাথার খুলি রাখার স্থান প্যারিসের কাটাকম্ব। ফ্রান্সের প্যারিসে ১৭০০ সালের মাঝামাঝি মাটির নিচে এটি নির্মাণ করা হয়। কমপক্ষে ৩০ বছর  আগে পরলোকগতদের খুলি এখানে সংরক্ষণ করা হয়। কথিত আছে, রাতেরবেলা এখানকার খুলি, হাড়গুলো নিজে নিজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করে।

ভাঙ্গার দুর্গ, ইন্ডিয়া
ভারতের রাজস্থানের পাশে অবস্থিত এই ভাঙ্গার দুর্গ। স্থানীয়দের কাছে শোনা যায়, জায়গাটির ওপর নাকি অভিশাপ আছে। কথিত আছে, এক ঋষি এই জায়গারটির ওপর অভিশাপ দেন যে, যাদের এখানে মৃত্যু হবে তাদের আত্মা চিরকাল এখানেই বন্দি থাকবে। রহস্যময় দুর্গটিতে কোনো পর্যটককে সন্ধ্যার পর থাকতে দেওয়া হয় না। বলা হয়, সন্ধ্যার পরে এখানে যারাই থেকেছেন আজ পর্যন্ত তারা ফিরে আসেননি। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো এখানকার কোনো বাড়ির ছাদ নেই।

স্ট্যানলি হোটেল
কলোরাডোর এস্টেস পার্কে অবস্থিত স্ট্যানলি হোটেল। উপন্যাসিক স্ট্যানলি কিং এই হোটেলে এসে ভৌতিক অভিজ্ঞতার মুখে পড়েন। ১১৭ নম্বর রুমে থাকাকালে তিনি শুনতে পেতেন ভূতের ছেলেরা পাশের রুমে খেলা করছে! অনেক আত্মা ওখানে ঘুরে বেড়াতো। যখন অতিথি আসতো তারা দেখতেন পিয়ানোর কীগুলো নিজে নিজেই নড়ছে, সুর তুলছে। পরে জানলেন, এই সব অভিজ্ঞতা যাদের হয় তাদের জীবন নাকি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সেই অভিজ্ঞতা থেকেই পরে The Shining উপন্যাসটি লেখেন স্ট্যানলি। উপন্যাসে কাল্পনিক ওভারলুক হোটেলের বর্ণনাটিতে তাকে অনুপ্রাণিত করে এই স্ট্যানলি হোটেল। স্টিফেন কিং এর উপন্যাস অবলম্বনে পরে নির্মাণ হয় ভৌতিক চলচ্চিত্র।

এডিনবার্গ দুর্গ, স্কটল্যান্ড
স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ দুর্গে যারা গেছেন, ভূত দেখার অভিজ্ঞতা তাদের অনেকেরই হয়েছে। কথিত আছে, ফরাসি যুদ্ধকালীন সময় দুর্গে বহু বন্দীকে হত্যা করা হয়। ফলে দুর্গটি অতৃপ্ত আত্মায় ভরে যায়। স্থানীয়দের মতে, এই ভৌতিক দুর্গে বহুবার ভূত দেখা গিয়েছে। দুর্গটিতে ঘুরতে আসা অনেক পর্যটকও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এডিনবার্গ দুর্গ, স্কটল্যান্ড
স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ দুর্গে যারা গেছেন, ভূত দেখার অভিজ্ঞতা তাদের অনেকেরই হয়েছে। কথিত আছে, ফরাসি যুদ্ধকালীন সময় দুর্গে বহু বন্দীকে হত্যা করা হয়। ফলে দুর্গটি অতৃপ্ত আত্মায় ভরে যায়। স্থানীয়দের মতে, এই ভৌতিক দুর্গে বহুবার ভূত দেখা গিয়েছে। দুর্গটিতে ঘুরতে আসা অনেক পর্যটকও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই পরে The Shining উপন্যাসটি লেখেন স্ট্যানলি। উপন্যাসে কাল্পনিক ওভারলুক হোটেলের বর্ণনাটিতে তাকে অনুপ্রাণিত করে এই স্ট্যানলি হোটেল। স্টিফেন কিং এর উপন্যাস অবলম্বনে পরে নির্মাণ হয় ভৌতিক চলচ্চিত্র।

বাড়িটির ভেতরে ঘুরে এসে অনেকেই বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা বলেন, বাড়িটির ভেতরে ঢুকলে মনে হয় কে যেন সামনে কিংবা পেছনে দাঁড়িয়ে আছে, আবার হুট করে মিলিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মালকিন ক্রাওলির ঘরে গেলে পুরোটা সময় অস্বস্তি হয়। পরে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসলে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়।

স্ক্রিমিং টানেল, নায়াগ্রা ফলস
কুখ্যাত জায়গার মধ্যে অন্যতম নায়াগ্রা জলপ্রপাতের এই স্ক্রিমিং টানেল। স্থানীয়রা বলে, এই টানেলের ভেতরে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন জ্বালালে সেটি নাকি আগুনের গোলা হয়ে টানেলের বাইরে চলে যায়। আর সেসময় একটি ছোট্ট মেয়ের চীৎকারের আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়।
খুবই ভয়ানক সেই আর্তচিৎকার। সেখানে যেতে সবসময়ই পর্যটকদের নিষেধ করেন স্থানীয়রা।

উডচেস্টার ম্যানশন
ভৌতিক বাড়ি হিসেবে খ্যাত ইংল্যান্ডের গ্লস্টারশায়ারে অবস্থিত উডচেস্টার ম্যানশন। প্রায় দুশ’ বছর আগে এর নির্মাণ কাজ শুরু হলেও তা অসমাপ্ত থাকে। পরিত্যাক্ত ভবনটির ভেতর থেকে অদ্ভুত শব্দ শোনা যায়। নির্মাণ কাজের শব্দের মতো শব্দ শুনেছেন অনেকে। কেউ বা আবার রোমান সৈন্য এমনকি তরুণীদেরও দেখেছেন। গুজব আছে, যারাই এটি নির্মাণের উদ্দেশ্যে আসেন কোনো না কোনোভাবে তাদের মৃত্যু হয়।

ডোমিনিকান হিল, ফিলিপাইনস
কথিত আছে, যুদ্ধের সময় এখানে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হতো। কেউ মারা গেলে তাকে সেখানেই কবর দেওয়া হতো। একসময় জায়গাটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। রাত হলে নাকি এখনো অদ্ভুত আওয়াজ শোনেন স্থানীয়রা। কখনো গুলি, কখনো বা মানুষের আর্তনাদ। আতংকে এই পথ মাড়ায় না কেউ। পর্যটকেরা দূর থেকে দেখেই চলে যান।

Related posts

Leave a Comment