বিজ্ঞান বার্তা ::::: মে – ’১২

বিজ্ঞান ও

আবিষ্কারমূলক

সংবাদ

 

 

নাসার স্যাটেলাইট চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করেছে

পৃথিবীর নিকটবর্তী উপগ্রহ চাঁদের নানা রহস্য আবিষ্কারে মহাকাশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা অকান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তারই অংশ হিসেবে গত ১ জানুয়ারী নাসার দুটি ডিরেইল স্যাটেলাইট প্রবেশ করেছে চাঁদের কক্ষপথে। গ্রেইল-এ ও গ্রেইল-বি নামক স্যাটেলাইট দু’টি গত বছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে কক্ষপথের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল।

বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ওই স্যাটেলাইট দু’টি কক্ষপথে চাঁদের সঠিক অবস্থান নির্ণয়ের জন্য মানচিত্রায়ন ক্ষমতাসম্পন্ন। যার মাধ্যমে চাঁদের সৃষ্ট অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা লাভ করবেন বিজ্ঞানীরা। এক্ষেত্রে বাহ্যিক পৃষ্ঠের পাশাপাশি চাঁদের অন্তঃপৃষ্ঠ সম্পর্কেও সম্যক ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 – জামাল আহমদ

 

তৈরী হলো উড়ন্ত কার্পেট

কার্পেটে চড়ে আকাশে ওড়া যায়, সাগর পাড়ি দেয়া যায়; এমন ঘটনা রূপকথার গল্পে আছে। গল্পের এ জাদুর কার্পেট এবার বাস্তবে তৈরী করলেন নিউজিল্যান্ডের এক বিজ্ঞানী বোব হারিস।

হারিসের ফাইং কার্পেট বা উড়ন্ত কার্পেটটি ১.৭ মিটার লম্বা। এটার ওজন ৫২ কেজি। আকাশে ওড়ার ছোট্ট এ জিনিসটাতে প্রধান অংশ, নমনীয় পাখা, ঘণ্টা ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি রয়েছে। উড়ন্ত কার্পেটটি আকাশে ওঠার পর সামনে ও পেছনের পাখা বায়ু ও উচ্চতা অনুসারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। ওড়ার সময় চালকের পেট কার্পেটের ওপরে রেখে এবং চোখ নিচের দিকে রেখে দু’হাতে কার্পেটটি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

হারিস বলেছেন, ভবিষ্যতে ফাইং কার্পেট আরো ছোট হবে। তখন তা ব্যাগের মতো সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া যাবে।

 – এ. হাসান

 

মিল্কি ওয়ে ধবধবে সাদা

আমাদের মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের রঙ তুষার শুভ্র ও ধবধবে সাদা – এমনটাই বলেছেন জোতির্বিদরা। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গের বিজ্ঞানীরা ছায়াপথের মূল রঙের সন্ধান পেয়েছেন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আমাদের ছায়াপথের রঙ ধবধবে সাদা, যা প্রতিফলিত তুষারের রঙের মতো দেখায়।

এ রঙের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমে ছায়াপথের বয়স নির্ধারণ, নতুন-পুরনো নক্ষত্রের তথ্য জানা সম্ভব হয়। বিজ্ঞানীরা রঙের ভিত্তিতে ছায়াপথকে দু’টি ভাগে ভাগ করেছেন। লাল রঙের ছায়াপথগুলো বয়স্ক এবং সেখানে নতুন নক্ষত্র কমই সৃষ্টি হয়। আর নীল রঙের গ্যালাক্সিগুলো নতুন এবং সেখানে নতুন গ্রহ-নক্ষত্র নিয়মিত তৈরী হয়।

আমাদের মিল্কি ওয়ে ছায়াপথ এ দু’টি ভাগের মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ আমাদের ছায়াপথের বয়স খুব বেশী নয়, আবার একেবারে নতুনও নয়।

 

 – হাসান মাহমুদ রিপন

 

ধূমকেতুর বুকে হার্পুন ছোড়া হচ্ছে!

জাহাজ থেকে হার্পুন ছুড়ে সাধারণত বড় সামুদ্রিক মাছ শিকার করা হয়। এখন নাসার গবেষকরা সেই বিদ্যা কাজে লাগাচ্ছেন ধূমকেতুর ক্ষেত্রে!

ন্যাশনাল অ্যারোনাটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নাসা) গবেষকরা ধূমকেতু থেকে নমুনা সংগ্রহের লক্ষ্যে একটি হার্পুন তৈরি করেছেন। প্রায় ১ মাইল দূর থেকে ধূমকেতুর বুকে হার্পুনটি ছুড়ে দিয়ে নমুনা সংগ্রহের পরিকল্পনা করছেন তারা।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ধূমকেতু পর্যন্ত পৌঁছে নমুনা সংগ্রহের চেয়ে হার্পুনের মতো যন্ত্র ব্যবহার করে নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি বেশী নিরাপদ। ধূমকেতু থেকে পাওয়া নমুনা পৃথিবীতে প্রাণের উৎস গবেষণায় কাজে লাগাবেন গবেষকরা।

 – আসাদ নকীব

 

উজ্জ্বলতম সুপারনোভার সন্ধান

সুপারনোভার অবস্থান পৃথিবী থেকে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে। কিন্তু কিছু কিছু সুপারনোভা আছে, সেগুলো এতটাই উজ্জ্বল যে, পৃথিবী থেকে খালি চোখেও তাদের দেখা সম্ভব। তবে এত উজ্জ্বল সুপারনোভার দেখা পাওয়া খুবই দুষ্কর।

সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা উজ্জ্বলতর প্রকৃতির একটি সুপারনোভার দেখা পেয়েছেন। সুপারনোভাটি এতটাই উজ্জ্বল যে, কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে থাকা সত্ত্বেও বিস্ফোরণের মাত্র ১১ঘণ্টা পরেই বিজ্ঞানীদের চোখে সেটির বিকিরণ ধরা পড়ে। নতুন দেখা পাওয়া এই সুপারনোভার নাম দেয়া হয়েছে ‘এসএন ২০১১ এফই’।

 – বশীরুদ্দীন মাহদী

Related posts

Leave a Comment